নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ধর্মীয় মতপার্থক্যের জেরে এক তরুণীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী তরুণী, সাদিয়া সুলতানা (৩১), বর্তমানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর দগ্ধ আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মোহাম্মদপুরের ‘স্মাইল ফুড কর্নার’ নামক একটি ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েকদিন আগে তিনি তার বন্ধুদের সাথে ওই স্থানে ধর্ম ও সমসাময়িক সামাজিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় অপর এক ব্যক্তি তাদের আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন। আলোচনার এক পর্যায়ে সাদিয়া তার যুক্তিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করলে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে হুমকি প্রদান করেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, ঘটনার দিন বিকেলে সাদিয়া ওই একই স্থানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ক্যাফেটেরিয়ার ভেতর থেকে তার শরীর লক্ষ্য করে ফুটন্ত গরম পানি নিক্ষেপ করা হয়। এতে তার তলপেট, বগল এবং উরুর ভেতরের অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি সাদিয়াকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে চিৎকার করতে থাকেন এবং উপস্থিত জনতাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন। তিনি ঘটনাটিকে ধর্মীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে একটি গণপিটুনির পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় কিছু সচেতন ব্যক্তি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দ্রুত ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন এবং একটি সিএনজির মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া সুলতানাকে ১৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে সেকেন্ড-ডিগ্রি (পার্শিয়াল থিকনেস) থার্মাল বার্ন দেখা গেছে, যা গরম পানির কারণে সৃষ্ট। বিশেষ করে তলপেট, বগল এবং উরুর মতো সংবেদনশীল স্থানে চামড়া উঠে যাওয়া (Skin Denudation), লালচে ভাব (Erythema), ফোলা (Edema) এবং ক্ষতস্থানে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি লক্ষ্য করা গেছে।
ভুক্তভোগী জানান, এর আগে থেকেই তার ধর্মীয় বিশ্বাস না থাকার কারণে তিনি সামাজিক ও পারিবারিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তার পরিবার তাকে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে এবং মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে বলে।
হামলার পর তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও অভিযুক্তদের প্রভাব ও পারিবারিক বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করেন। তবে তিনি মনে করেন, এতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। ভুক্তভোগী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।